সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার চাইছেন স্থানীয় রঙ উৎপাদকরা

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ পর্যায়ে রঙের ওপর সম্পূরক শুল্কহার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ পর্যায়ে রঙের ওপর সম্পূরক শুল্কহার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এতে স্থানীয় রঙ উৎপাদকদের ওপর করভার আরো বেড়েছে। এ অবস্থায় সরবরাহ পর্যায়ে প্রাইমারসহ রঙের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমএ)। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ও পরিচালক মহসিন হাবিব চৌধুরী।

বিপিএমএর চিঠিতে বলা হয়েছে, বাড়তি সম্পূরক শুল্ক স্থানীয় রঙ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের ওপর করের চাপ আরো বাড়াবে। আগামী দিনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায় পরিবেশ অস্থিরতার মধ্যে থাকবে। তাই স্থানীয় উৎপাদকদের উৎপাদনের গতি ঠিক রাখা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনটি বলছে, ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর ফলে রঙ ও নির্মাণ ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বাড়তি সম্পূরক শুল্ক রঙের দাম বাড়বে, তাতে চাহিদা কমবে। এতে এ খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা স্থবির হতে পারে। কয়েক বছর ধরে এমনিতেই এ খাত নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখন স্থানীয় রঙ উৎপাদকদের ওপর নতুন করে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোয় এ খাত আরো সমস্যায় পড়বে।

স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি পর্যায়েও বিভিন্ন ধরনের রঙ ও বার্নিশের ওপর সম্পূরক শুল্কহার ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আমদানি করা রঙ, বার্নিশের দামও বাড়তে পারে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই রঙের চাহিদা কমেছে। এছাড়া সরকারি প্রকল্পের কাজের গতিও শ্লথ। তাই রঙ শিল্প সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অনেকটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার মতো। কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি ইস্যুর কারণে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় রঙ উৎপাদকরা। এর মধ্যে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত, টাকার অবমূল্যায়ন ও ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ অন্যতম।

বিপিএমএর তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে ৩৩টির মতো দেশী কোম্পানি রঙ উৎপাদন করে। বর্তমানে রঙ শিল্পের বাজারের আকার ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার মতো শুল্ক-কর দেয় রঙ উৎপাদক কোম্পানিগুলো। দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ রঙের চাহিদা মেটান স্থানীয় রঙ উৎপাদকরা।

আরও